তরুনদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য ও উদারতা ফুটিয়ে তুলতে হবে।

তরুনদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য ও উদারতা ফুটিয়ে তুলতে হবে
একান্ত আলাপচারিতায় মুফতি আবদুল্লাহ মারুফী দা.বা.
সাক্ষাতকার গ্রহণে তানজিল আমির।
মুফতি আবদুল্লাহ মারুফী।

বিশ্বখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের উচ্চতর হাদিস গবেষনা বিভাগের প্রধান। বর্তমান বিশ্বের একজন দ্বায়িত্বশীল বিজ্ঞ আলেম । শাস্ত্রীয় এ ব্যক্তিত্য লিখেছেন গবেষনামূলক অনেক বই।অতি সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। ঢাকা,সিলেট সহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষাবিষয়ক কয়েকটি সেমিনারে বক্তৃতা দিয়েছেন। ধারাবাহিক পোগ্রাম ও সফরের ব্যাস্ততার মাঝে তিনি সাক্ষাতকারের জন্য সামান্য সময় দিয়েছেন। বাংলাদেশ সফরের শেষ দিন ঢাকার চৌধুরিপাড়াস্থ ইকরা বাংলাদেশে এ সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করা হয়। সময় সল্পতার কারনে অনেক বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।তবুও চেষ্টা করা হয়েছে মৌলীক কথাগুলো তুলে আনার জন্য । দেওবন্দী ধারার বড় আলেমগন সাধারনত মিডিয়াতে তুলনামুলক কম আসার চেষ্টা করেন।তবে বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সূস্থ ধারার শালীন মিডিয়াকে তারা অনুৎসাহিত করেননা।যেহেতু মুফতি আবদুল্লাহ মারুফী দা.বা. দারুল উলুম দেওবন্দের হাদিস বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র একজন মুহাদ্দিস। তাই তার ব্যক্তিত্বের প্রতি লক্ষ্য করে অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে। বরং উম্মাহর এ চরম দূর্দিনে একজন মুসলমান কিভাবে নিজেকে ও তার অধিনস্থদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে,সাক্ষাতকারটিতে সেদিকেই বেশী লক্ষ রাখা হয়েছে।এ কথোপকথনকে গতানুগতিক কোন ইন্টারভিউ হিসেবে না পড়ে পথচলার দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখলে উপকারের আশা করা যায়।ইনশাআল্লাহ।

সাক্ষাতকার গ্রহণে সহযোগীতার জন্য তরুন আলেম ও লেখক মাওলানা আবুল ফাতাহ কাসেমীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

প্রশ্নঃ বিশ্বের আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান ও এখনকার বহুমুখি পড়াশোনা সম্পর্কে আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন, তো বর্তমান সময় বিবেচনা করে একজন মুসলিম বাবা মা তাদের সন্তানকে কেমন শিক্ষায় শিক্ষিত করবে?
উত্তরঃ একজন মুসলিম পিতা-মাতা তার সন্তানকে ছোটকালেই দীনি শিক্ষা দান করবে। যাতে ধর্মের প্রাথমিক জ্ঞান শৈশবে অর্জিত হয়ে যায়।এবং শিশু অবস্থাতেই যেন অন্তরে ঈমানের বীজ বোপণ হয়ে যায়। এরপর যদি দীনের উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করানোর ইচ্ছে থাকে,তাহলে তো মাদরাসায় পড়বে। আর যদি জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায়, তাহলে তাকে স্কুলে দিবে। সন্তানের জন্য এমন স্কুল নির্বাচন করবে, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা ও পরিবেশ অন্যান্য স্কুল থেকে ভালো ও উন্নত। এতে বাচ্চার নৈতিকতার ভিত্তি মজবুত হবে। সন্তান বড় হয়ে স্কুলে পড়–ক বা মাদরাসায় পড়–ক সেটি পরের কথা,শৈশবেই যেন তার প্রাথমিক কিছু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন হয় যেমন ঈমান ও তাওহীদ,আল্লাহ ও রাসূল স. এর পরিচয়,মাতা-পিতার অধিকার ইত্যাদি। একজন মুসলিম পিতা-মাতার সেটিই খেয়াল করতে হবে।
প্রশ্নঃ আমাদের দেশে মকতবের প্রচলন রয়েছে,যেখানে এ সকল বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।এটি কতটুকু উপকারী বলে মনে করেন?
উত্তরঃ হ্যা, মকতব একটি সুন্দর ও উপকারী সিষ্টেম। ভারতেও এর প্রচলন রয়েছে। মকতবগুলোর মাধ্যমে সমাজে ব্যাপক উপকার হচ্ছে। যে সকল অভিবাবক তাদের সন্তানকে শুরুতেই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন,সে বাচ্চারা এ মকতবে কোরআন শিখছে। মকতবের এ ধারাটি আরো গতিশীল ও যুগোপযোগী করার জন্য আমাদের বড়রা তাকিদ দিয়েছেন।
প্রশ্নঃ যারা এখন স্কুল-কলেজে পড়ছে,তাদের দীন শেখানোর জন্য আপনার পরামর্শ কি?
উত্তরঃ স্কুল বা কলেজে যারা পড়াশোনা করছে,তাদের মাঝে প্রথমে দীনের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। এর সহজ পদ্বতি হলো তাদেরকে জামাতে পাঠিয়ে অথবা স্কুলের পাশবর্তী মসজিদে তাদের জন্য বয়ানের আয়োজন করা। সম্ভব হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাদের ক্লাসেই দীন শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা।যার ফলে তারা দীন শিখতে আগ্রহবোধ করবে।এবং কিছুটা হলেও তাদের দীনি ইলম হাসিল হবে।এসব ব্যাপারে জিম্মাদার আলেমরা উদ্যোগী হলে অনেক পদ্বতি বেরিয়ে আসবে।
প্রশ্নঃ এর মাধ্যমে তো প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু দীন শিখতে পারবে,এরপর যদি কোন ছাত্র উচ্চতর আরো কিছু শিখতে আগ্রহী হয়,তাহলে সে কি করবে।এবং ঐ পর্যায়ের ছাত্রদের স্তর অনুযায়ী ধর্মীয় শিক্ষা কিভাবে প্রদান করা হবে?
উত্তরঃ সরকারী স্কুল-কলেজে সিলেবাসে যতটুকু ইসলাম শিক্ষা রয়েছে,তা তো প্রাথমিক স্তরের। এরপর কোন ছাত্র যদি আরো শিখতে আগ্রহবোধ করে, তাহলে তাদের জন্য পার্টটাইম মাদরাসার ব্যবস্থা করতে হবে। ছাত্ররা দিনে তাদের সূযোগ অনুসারে এক-দুই ঘন্টা সেখানে সময় দিবে। আর বেসরকারীভাবে আমাদের এমন কিছু স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে আলাদাভাবে দিনে দুই-এক ঘন্টা ইসলামী শিক্ষা দেওয়া হবে। মাদ্রাজে জামেউল উলূম নামে একটি কলেজ আছে,যেখানে ছাত্ররা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে,পাশাপাশি দুই ঘন্টা কোরআন-হাদিসও শিখছে।এর মাধ্যমে তো পূর্ণ আলেম হওয়া সম্ভব ও উদ্দেশ্য নয়।তবে জ্ঞান বিজ্ঞানে স¦য়ং সম্পন্ন একজন খাটি মুসলমান হওয়া তো সম্ভব।এমন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা আলেম ও ইমামদের জিম্মাদারি।একজন ইমামের দায়িত্ব শুধু এতটুকু নয় যে,তিনি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াবেন,আর বাকী সময় সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবেন।বরং এলাকার তরুন ও যুবকদের কিভাবে দীনের পথে রাখা য়ায়,এবং কোরআনের আলো কিভাবে তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায় ,এসব দায়িত্ব তার।কখন তাদের সময় হয়,এভাবে তাদের জন্য পার্টটাইম অথবা নৈশ মাদরাসার ব্যবস্থা করতে হবে।একজন ইমাম তার এলাকাবাসীর দীনের জিম্মাদার।

প্রশ্নঃ ইদানীং একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাবলম্বীরা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের বেশী টার্গেট করে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছে। যার ফলে সমাজে হাদিস সহ বিভিন্ন নাম দিয়ে অনেক ফেরকা গড়ে উঠছে,এ টার্গেট থেকে তাদের কিভাবে রক্ষা করা করা যায়?
উত্তরঃ এমনটা তো হচ্ছে তাদের মাঝে দীনের মৌলিক জ্ঞান না থাকার কারনে।আমাদের উচিত তাদের সামনে ইসলামের আসল কথা ফুটিয়ে তোলা।এ জন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করতে হবে।যেখানে কোরআন হাদিসের আসল ব্যাখ্যা তাদের জানানো হবে।সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই এ আয়োজনগুলো করতে হবে।বাংলাদেশ তো একটি মুসলিম দেশ,আশা করি স্কুল কর্তৃপক্ষও এতে আপত্তি করবেনা। অমুক অমুক ফেরকার খন্ডন এমন শিরোনামে নয়,বরং ইসলামের মৌলিক জ্ঞান শিক্ষা,এমন শিরোনাম হতে হবে।এর ফলে যে কেউ তাদের আর বিব্্রান্ত করতে পারবেনা।
প্রশ্নঃ উগ্রপন্থা ও জঙ্গীবাদের জন্য ও তরুনদের টার্গেট করা হচ্ছে,আপনার কাছে এর মূল কারন কী মনে হয়?
উত্তরঃ জঙ্গীবাদ তো এখন একটা পরিভাষা হয়ে গিয়েছে। যে কোন ধরণের সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রপন্থাকে এখন ইসলামের লেভেল লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আসল কথা হলো, মানুষ যখন তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার অধিকার আদায়ের জন্য যে কোন কঠিন পন্থা অবলম্বন করার মানসিকতা তার মাঝে তৈরি হয়ে যায়।তখন বিভ্রান্তকারীরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হয় যে, তোমার অধিকার আদায়ের পথ তো এটিই। তাদের তখন জিহাদের নামে উগ্র করে তুলে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইসলামী জিহাদ তো আসলে এমনটি নয়। জিহাদের অন্যতম শর্ত হলো,তা কেন্দ্রীয় ইসলামী সরকারের অধীনে একজন আমীরুল মুমিনীনের নেতৃত্যে হতে হবে।কয়েকজন মিলে একটি দল গঠন করে অস্ত্রশ¯্র নিয়ে কিছু হুলুস্থুল করলেই জিহাদ হয়না। এমন কাজকে জিহাদ বলাও একটা ভুল।

প্রশ্নঃ তাহলে ইসলামে জিহাদের স্বরুপ কেমন?

উত্তরঃ জিহাদ তো ইসলামের সুন্দর একটি ইবাদত। রাসূল স. এর জীবনেই আমরা এর উত্তম বাস্তবায়ন দেখতে পাই। রাসূল স. যখন কোন কুফরি শক্তির বিরুদ্বে লড়েছেন অথবা কোন দল পাঠাতেন, তখন তাদের বলে দিতেন যে তোমরা প্রথমে তাদের ঈমানের দাওয়াত দিবে। যদি তারা তা অস্বিকার করে তাহলে তাদের সাথে সন্ধি স্থাপন করবে। এটাও যদি তারা না মানে, বরং তোমাদের সাথে লড়াইয়ে এগিয়ে আসে, তখন তাদের সাথে লড়াই করো। তবে সাবধান, কোন শিশু, মহিলা ও বৃদ¦কে হত্যা করবেনা। কারো উপসনালয়ে হামলা চালাবেনা। এবং কেউ যদি তাদের উপাসনালয়ে প্রার্থনারত থাকে, তাকেও হত্যা করবেনা। নির্বিচারে ঘরবাড়ি ও গাছপালা জালিয়ে দিবেনা। মূলত জিহাদ স্বতন্ত্র একটি ইবাদাত। অন্যান্য আহকামের মতো এটির ও অনেক বিধান রয়েছে।
প্রশ্নঃ সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্বে বাংলাদেশের আলেমগন সম্প্রতি একলক্ষ মুফতির সাক্ষর সম্বিলিত একটি ফতোয়া জারির উদ্যোগ নিয়েছেন,এ উদ্যোগটি কেমন?

উত্তরঃ এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্বান্ত।আমি এ উদ্যোগকে মুবারাকবাদ জানাই।এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে যে ইসলাম বা জিহাদের কোন সম্পর্ক নেই,বিশ্বব্যাপি সেটি স্পষ্ট হবে।এবং বিশৃঙংখলা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্বে আলেমদের অবস্থান ও স্পষ্ট হবে।

প্রশ্নঃ ইসলামে মানবাধিকারের একটু ব্যাখ্যা করুন?
উত্তরঃ অধিকার তো পর্যায়ভিত্তিক হয় ।প্রত্যেক মানুষের স্তর অনুপাতে ইসলাম তাকে তার অধিকার প্রদান করেছে। বিশ্ববাসীকে মানবাধিকারের পূর্ণ রুপ ইসলামই প্রথম দিয়েছে।এর ব্যাখ্যা এভাবে হতে পারে যে, মানুষ হিসেবে তো সকলের মর্যাদা সমান । এতে কোন ভেদাভেদ নেই। কিন্তু মেধা,শক্তি,যোগ্যতার বিবেচনায় সকলেরই আলাদা সম্মান ও অধিকার রয়েছে। যেমন একজন পুরুষের শক্তি,কর্মসক্ষমতা,ও পরিশ্রমের মাত্রা অনুপাতে তার যেমন অধিকার দিয়েছে। তেমনী একজন নারীর বুদ্বিমত্তা,কষ্ট ও ত্যাগের মূল্যায়ন ও ইসলাম করেছে।সর্বোপূরি যার যতটুকু প্রাপ্য,তাকে তা প্রধানই তার অধিকারের মূল্যায়ন।আর ইসলামে এ বিষয়টিই বেশী লক্ষ্য রাখা হয়েছে।মানুষের জীবনের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যে,সেখানে ইসলাম তাকে কোন অধিকার প্রদান করেনি।
প্রশ্নঃ ইসলামে নারী শিক্ষা নেই,বা আলেমরা নারী শিক্ষার বিরোধী, এমন অভিযোগ অনেকেই করে । আসলে কি তাই?
উত্তরঃ ইসলামে নারীদের শিক্ষাদীক্ষা ও পড়াশোনার কোন বাধা নিষেধ কখনো ছিলোনা। আলেমরাও নারী শিক্ষার বিরোধী নয়। তবে আলেমরা নারীদের নাজায়েজ শিক্ষা পদ্বতীর বিরোধী।
প্রশ্নঃ তাহলে নারী শিক্ষার পদ্বতী কি হবে?
উত্তরঃ এমন কথা তো কেউ বলতে পারবেনা যে,নারী-পুরুষ সম্পূর্ণ এক জিনিষ।অবশ্যই সৃষ্টিগত কিছু পার্থক্য আছে। বিবেকমান মানুষমাত্রই তা স্বীকার করবে।তাই আল্লাহ নারীদের যে পর্দা রক্ষা করে চলার হুকুম দিয়েছেন,এভাবে তাদের ইজ্জত-আব্রুর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।ইসলামে নারী শিক্ষাকে খাটো করেও দেখা হয়নি।বরং নবীযুগ থেকে এমন অনেক নারী মনিষি ছিলো,জ্ঞান গরিমায় তারা পুরুষদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলো।
প্রশ্নঃ আমাদের দেশে নারীদের জন্য কিছু আলাদা প্রতিষ্ঠান রয়েছে,(যেমনঃমহিলা মাদরাসা,গার্লস স্কুল) সেগুলো কি জায়েজ হবে ?
উত্তরঃ যদি পূর্ণ পর্দা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়,তাহলে জায়েজ হবেনা কেন ? অবশ্যই জায়েজ।ভারতেও এমন প্রতিষ্ঠান আছে। এভাবে মেয়েদের সূবিধাজনক নারীবান্ধব পরিবেশে যত উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করুক।কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্নঃ আপনি তো দারুল উলুম দেওবন্দের হাদিস বিভাগের প্রধান।সে হিসেবে জানতে চাই,এখন অনেকেই আগ্রহ করে নিয়মিত হাদিস অধ্যায়ন করছে।তো একজন সাধারন মুসলমান হাদিস থেকে কিভাবে উপকৃত হবে? অর্থাত তার হাদিস অধ্যায়নের পদ্বতি কেমন হবে?
উত্তরঃ আলহামদুলিল্লাহ,একজন মুসলমানের কোরআন হাদিস অধ্যায়নের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া তো খুবই খুশির কথা।তবে দেখুন,একজন সাধারন মানুষের পক্ষে সরাসরি হাদিস থেকে জ্ঞান অর্জন করা খুবই কঠিন কাজ।তাই কোন নির্ভরযোগ্য আলেমের তত্বাবধানে যদি কেউ নিয়মিত হাদিস অধ্যায়ন করে,তাহলে সে বেশী উপকৃত হবে।কারন রাসূল স. এর পুরো জীবনের কথাগুলোকে হাদিস হিসেবে লিপিবদ্ব করা হয়েছে।একজন সাধারন মুসলমান বুঝতে পারবেনা যে,এ হাদিসটি কোন প্রেক্ষাপটে নবী স. বলেছেন।তাই তার পক্ষে ভ’ল বুঝা অস¤ভব কিছু নয়।এ জন্য উত্তম পদ্বতি এটিই হবে যে,নির্ভরযোগ্য কোন আলেমের দিকনির্দেশনাতে হাদিসের কিতাবগুলি অধ্যায়ন করা।

প্রশ্নঃ পৃথিবীতে মুসলমানদের যত মতবাদ বা দল রয়েছে,সকলকেই তাদের মতের সমর্থনে হাদিস পেশ করতে দেখা যায়।পরিস্থিতি এমন যে,সকলেরই নিজস্ব কিছু হাদিস রয়েছে,এমনটি কেন হয়,এবং এর সার্বজনীন মীমাংশা কি হবে?
উত্তরঃ হাদিস তো একটি বিশাল শাস্ত্র।আমি আগেই বলেছি,হাদিস হিসেবে যা সংকলিত হয়েছে তা রাসূল স. এর পুরো জীবনের কথাগুলো।এখানে এসে দেখতে হবে যে,কোন হাদিসের কি প্রেক্ষাপট।কোন কারনে রাসূল স. এ কথা বলেছেন,কার জন্য বলেছেন,এটি সকলের আমলযোগ্য না নির্দিষ্ট কারো ব্যাপারে বলেছেন ইত্যাদি।সকল হাদিস তো আমল যোগ্য না।কারন আল্লাহ ও রাসূল স. আমাদের আদেশ করেছেন,রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী চলার জন্য।আমাদের দেখতে হবে,এটি কি রাসূল স.এর সুন্নাত কিনা।এখন হাদিস নিয়ে যে বিভ্্রান্তী তৈরি হচ্ছে,তা এ কারনেই।বিভিন্ন মতাবলম্বীরা রাসূল স. এর সূন্নাহ পরিত্যাগ করে তাদের সূবিধা মত হাদিস গ্রহণ করছে।এর সার্বজনীন মীমাংশা এটিই যে,আমাদের হাদিস সমর্থিত সুন্নাতের আমল করতে হবে।এবং সুন্নাতের বিপরীতে শুধু হাদিস গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ আমাদের দেশে দীর্ঘদিন যাবত মিশনারীরা মুসলমানদের ধর্মান্তরের তৎপরতা চালাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয়?
উত্তরঃ দেখুন,তারা যেভাবে কাজ করছে আমাদের ও সে উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে। তারা বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করছে।আলেমদের ও এমন স্কুল করতে হবে।দূর্ঘম এলাকাগুলোতে তারা চিকিৎসা সহ সেবামূলক কাজ করছে,আমাদের উচিত তাদের চেয়ে আরো বেশী এমন কাজ করা।জনকল্যামূলক কাজ করা তো আমাদের দায়িত্ব।আমরা ছেড়ে দেওয়ার কারনেই তারা করছে।মোটকথা কাজের মোকাবেলা কাজ দিয়েই করতে হবে।
প্রশ্নঃ কওমী মাদরাসার পুরাতন অনেক কিতাব সংস্কার বা পরিবর্তনের একটা কথা উঠেছে,আপনি কি মনে করেন?
উত্তরঃ কওমী মাদরাসার মৌলিক উৎস বা মূল কিতাবাদী তো সর্বদা ঠিক থাকবে।তবে যুগ ও সময়ের বিবেচনায় কিছু পরিবর্তন অবশ্যই আনতে হবে।যেমন মানতেক তথা যুক্তিশাস্ত্রের এমন অনেক কিতাব আছে,যে গুলো এ যুগে পড়ানোর প্রয়োজন নেই।
প্রশ্নঃ মিডিয়া সম্পর্কে ইসলাম কি বলে,অর্থাৎ ইসলামী মিডিয়া কেমন হওয়া উচিত?
উত্তরঃ মিডিয়া তো এখন শুধু প্রচার মাধ্যমে সীমাবদ্ব নেই।অনেক কিছুই হচ্ছে এখন মিডিয়ার মাধ্যমে।তাই বলা যায়,যা সুস্থ ও সুন্দর,ইসলাম সেটিকে নিষেধ করেনা।যা বাস্তবে নিষেদ,তা মিডিয়াতেও নিষেধ।মিডিয়া তো এখন ব্যাপক বড় একটি শিল্প।স্বল্প পরিসরে বি¯তারিত বলা বা বুঝানো সম্ভব নয়।এ সম্পর্কে আমার গবেষনালব্দ একটি প্রবন্ধ রয়েছে।সেখানে বিস্তারিত লিখেছি।সেটা দেখে নিতে পারেন।
বিশাল ব্যস্ততার মাঝে ও আপনি সময় দিয়েছেন,এ জন্য বাংলাদেশের সকলের পক্ষ থেকে আপনাকে আজ  ধন্যবাদ।
মাওলানা মারুফীঃ সময় সংক্ষিপ্ততার কারনে বেশী কথা বলা হলোনা, আবার আসলে হবে,ইনশাআল্লাহ।

আপনাকে ও ধন্যবাদ।বাংলাদেশের সকলকে আমার সালাম রইলে॥

 

আরো পড়ুন পোস্ট করেছেন

Comments

লোড হচ্ছে...
শেয়ার হয়েছে