পশু বেচাকেনায় ধোঁকাবাজি : সতর্কতা কাম্য

মীর হুযাইফা আল-মামদূহ

‘হাশমত সাহেব (ছদ্মনাম), গাবতলি গিয়েছেন। গরু কিনবেন। ভাবছেন, এবারে একা কুরবানি দেবেন, তাই অনেকদিন হয় টাকা জমাচ্ছেন। বাজেট একটু কম, ভাবছেন দেখেশুনে একটা ভাল দেখে গরু নেবেন। হাটে, এলাকার এক স্বল্প পরিচিত ভদ্রলোকের সাথে দেখা। যেচে এসে আলাপের এক পর্যায়ে ভদ্রলোক জানালেন, তার পরিচিত কিছু বিক্রেতা, কমদামে ভাল গরু বেচছে। কুষ্টিয়া থেকে এসেছে হাটে উঠতে পারেনি। পাশেই এক জায়গায় উঠেছে, কমদামে তাই ছেড়ে দিচ্ছে। হাশমত সাহেব সিদ্ধান্তের দোটানায় পড়ে হাট থেকে একটু দূরে কথিত সেই জায়গায় গেলেন। বেশ নাদুসনুদুস গরু। দাম তার নাগালেই। খানিকটা বিস্ময় আবার জিতে যাওয়ার কিছুটা অনুভব নিয়ে গরু কিনে ফেললেন। রাস্তায় বেশ বড় গলায় দাম বলতে বলতে বাসায় ফিরলেন। অনুভুতি; জিতেছেন বেশ!
রাতে গরুটা মারা গেল। পাশের বাসার দারোয়ান, বেশ অনেক বছর গরু পেলে অভ্যস্ত। সে বলল, গরুটাকে মোটাতাজা করণের ওষুধ খাইয়ে এমন ফুলিয়ে তোলা হয়েছিল, ভেতরটা তাই ফেঁপে গিয়েছিল, টিকতে পারেনি। গরু- হাশমত সাহেবের কুরবানি করবার আশা সমেত মরেছিল।’

একটা ঘটনার বর্ণনা দিলাম কেবল। কুরবানির সময় পশু কেনা-বেচা নিয়ে হাজারো রকমের ধোঁকাবাজি হয়, মানুষ প্রতারণার শিকার হয়। টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে যায় গরু দেখাবার নাম করে।

কীভাবে আমরা এসব প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে পারি তা-ই নিয়ে কথা বলেছিলাম, মোহাম্মাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জামাল উদ্দিন মীরের সাথে। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি হাটের জন্যে ইনস্পেক্টর পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এবং হাটে বড় করে ব্যানার টাঙ্গিয়ে তার সাথে যোগাযোগের নাম্বার দিয়ে দেয়া হয়েছে।’ নালিশ পেলে পুলিশ পর্যাপ্ত সহায়তা দেবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
বিক্রয় পরবর্তী হয়রানি থেকে বাঁচবার জন্যে তার পরামর্শ হল, সন্দেহ হলে ক্রেতার নাম-ঠিকানা সমেত ছবি তুলে রাখা যেতে পারে। এতে কিছুটা হলেও হয়ত প্রতিবিধান করা যাবে।এ ক্ষেত্রে প্রতারণা আইনে মামলা চলবে। কুরবানি কেন্দ্রিক আলাদা কোনো প্রতারণা আইন নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

পশু কিনবার সময় আমরা কী কী বিষয় খেয়াল রাখবো তা জানতে চেয়েছিলাম, মোহাম্মাদপুর কাঁচা বাজারের গোস্তের দোকানি মোঃ সেলিমের কাছে। তিনি অসুস্থ গরু চিনবার বেশ কয়টি টিপস দিয়েছেন। সেগুলো হলো:

  • কান নেতিয়ে থাকা গরু।
  • চোখ স্বাভাবিকের চাইতে বড় হয়ে যাওয়া গরু।
  • জাবর কাটতে না থাকা গরু, মুখের সামনে খাবার নিলে যেটা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
  • ট্যাবলেট খাওয়ানো গরু ঝিমিয়ে থাকবে।
  • পেট বড় থাকলে অসুস্থ হবার সম্ভবনা প্রবল।

তাছাড়া পিঠের কাছের চামড়া পাতলা হলে তা সুস্থ এবং ঠিক ওজনের হবে বলে তারা মানেন বলে জানিয়েছেন সেলিম।
পরিচিত কোন গোস্ত বিক্রেতাকে গরু কিনবার সময় সাথে পেলে সুবিধা পাওয়া যাবে।
গরু কিনবার সময় একাধিক জন মিলে হাটে যাওয়া স্বাস্থ্যকর। তাতে মানসিকতা এবং পয়সা দুটোই নিরাপদে থাকবে।