একজন মহা মণীষীর দাওয়াতি কর্মশালা -বিশ্ববিখ্যাত দা’ঈ হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা:বা:

মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহেবের কথা সবাই শুনেছি। সবাই হয়তো তাকে দেখিনি। তার একটা সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তিনি, অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
তিনি প্রথমে মেডিকেলের ছাত্র ছিলেন। পরে দ্বীনি শিক্ষার দিকে আসেন।

২৩ সেপ্টেম্বর। ১৯৫৭ সালে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের ফুলাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম হাজী মুহাম্মাদ আমীন। ছাত্র হিসেবে তিনি অত্যন্ত মেধাবি। ফ্রি মেডিকেল টেস্টে অল ইন্ডিয়ায় তাঁর র‌্যংকিং ছিল ৫৭। তিনি অবশ্য এম বি বি এস হলেন না। নাদওয়াতুল ওলামায় চলে এলেন।  নাদওয়া থেকে পাঠপর্ব শেষ করলেন। ওদিকে কেমিস্ট্রি (রসায়ণে) বিএসসি ডিগ্রিও অর্জন করলেন।

কলীম সিদ্দীকি (দাবা) তাঁর নিজ গ্রাম ফুলাতে একটি মাদরাসা পরিচালনা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদী কোর্সের আয়োজন করেন। দা‘য়ীদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য।

মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহিব, তিনি পুরোপুরি আলী মিয়াঁ (রাহ.) দ্বারা প্রভাবিত। জামইয়্যাতি ইমাম ওয়ালিউল্লাহ ট্রাস্ট নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটি একটি দাওয়াতি সংগঠন। বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমও এই সংঘের আওতায় পরিচালিত হয়।

মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহিব, তিনি পুরো ভারত জুড়ে অসংখ্য মাদরাসা ও স্কুল পরিচালনা করে থাকেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করার জন্য, বিভিন্ন প্রাদেশিক শহরে কেন্দ্রীয় অফিস আছে।

কলীম সিদ্দীকি সাহিব। তিনি উর্দু ভাষায় ‘আরমুগান’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করে থাকেন। সর্বশান্তি নামে হিন্দিতে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করে থাকেন। আল খাইর নামে আরবিতে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করে থাকেন।

মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহিব। ওয়ার্ল্ড পীস ওর্গানাইজেশান নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহিব। তিনি দা‘য়ী ইলাল্লাহ। তিনি ওয়ায়িজ। তিনি মুসান্নিফ। তিনি অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম। তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছেই ভাই হিসেবে পরিচয় দেন।
* মাওলানা কালীম সিদ্দীকি। তিনি সমস্ত মানবতার প্রতি ভালোবাসা রাখেন। সবাইকে দ্বীনের ছায়ায় নিয়ে আসার ফিকির করেন। তিনি সমাজে সবার প্রতি ব্যথা অনুভব করেন। তাদেরকে পথহারা দেখে তিনি গুমরে গুমরে কাঁদেন। তিনি ভদ্রভাবেই সবার কাছে দাওয়াত পৌঁছান। সবাই গ্রহণ করতে পারবে এমন ভঙ্গিতেই তিনি কথা বলে থাকেন। তিনি অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

* মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহিব। তিনি হযরত যাকারিয়্যা (রহ.) এরও খলীফা। তিনি পেশাগতভাবেই একজন দা‘য়ী।

* মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহিব। তিনি গল্প বলার ভঙ্গিতে, সহজ সরল ভাষায়, স্মিতহাস্যে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করে থাকেন।

* মাওলানা কালীম সিদ্দীকি সাহিব। তিনি তার কথা মধ্যে বিভিন্ন কারগুজারি উপস্থাপন করেন। ফলে তার কথাগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে।

কলীম সিদ্দীকি (দা বা) এর বয়ান :

মালফুযাত (এক)
দ্বীনের দাওয়াত দানের ক্ষেত্রে হিম্মত হারাব না। একজন অমুসলিমকে কিভাবে দাওয়াত দিবো, উনি কী মনে করবেন, আমি যদি তাকে দাওয়াত দিই সে যদি দাওয়াত গ্রহণ না করে, দাওয়াত দিতে গেলে সে যদি পাল্টা প্রশ্ন করে তার উত্তর দিতে পারবো তো, এসব প্রশ্নকে প্রশ্রয় না দেয়া। যাকে দাওয়াত দিতে যাবো তার সামনে সরাসরি কুরআন কারীমের আয়াত পেশ করে দেয়া। কুরআনের নূর তার মধ্যে প্রবেশ করার সুযোগ করে দেয়া। জটিল কোন আলোচনায় না যাওয়া। সাদাসিদাভাবেই দাওয়াত পেশ করা।

মালফুযাত দুই
দাওয়াতের ক্ষেত্রে দুনিয়াবি আসবাব দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া। যাকে দাওয়াত দিবো তার অর্থ-যশ-খ্যাতি ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া। উনি এত বড় পদের অধিকারি, তিনি এত বিখ্যাত মানুষ তাকে দাওয়াত দিই কিভাবে? তিনি কি আমার চেয়ে কম জানেন? এ ধরনের কোন দ্বিধায় না ভোগা। হিম্মত করে দাওয়াত পেশ করে দেয়া। বাকীটুকু আল্লাহর হাতে।

মালফুযাত (তিন)
আল্লাহ তা‘আলা কুরআন কারীমে বলেছেন: ইয়া আইয়ুহার রাসূলু, বাল্লিগ মা উনযিলা ইলাইকা। হে নবি! আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তা আপনি পৌঁছে দিন। তাহলে বোঝা গেল দাওয়াত দিতে হবে কুরআন কারীমের মাধ্যমে। অন্য কিছু দিয়ে যদি দাওয়াত দেয়া যেতো, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা সেটা বলে দিতেন। আমাদের মনে ভুল ধারণা, দাওয়াত দিতে গেলে বুঝি অন্য ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কেও জানতে হবে। সেটা জানলে ভাল, না জানলে বসে না থেকে কুরআন কারীমকে অবলম্বন করেই নেমে পড়া।

মাওলানা কালিম সিদ্দিকি দাঃ বাঃ বলেন,
আমাদের মুসলমানগন যেন নিজেদেরকে দাঈ মনে করেন।পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে যেন দাওয়াতের ক্ষেত্র মনে করেন।তারা এমনটি করতে পারেন, তাহলে আমাদের এই পৃথিবী বেহেশতে পরিনত হবে।একজন দাঈ একজন চিকিৎসক। যাকে দাওয়াত দেয়া হয় সে তো অসুস্থ। অসুস্থএর বেলায় কোনো চিকিৎসক নিরাশ হতে পারেন না।তাছাড়া কোন চিকিৎসক অসুস্থ ব্যক্তিকে ঘৃণা করতে পারেন না। ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দিতে পারেন না।বেদনার বিষয় হল,মুসলমানগন রোগীদেরকে প্রতিপক্ষ ভেবে বসেছেন। এর নির্মম পরিনতির শিকার আজ মুসলমানরাও।এ কারনেই আজ পৃথিবী ঈমান ও ইসলাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

Comments

লোড হচ্ছে...
শেয়ার হয়েছে