আমার এই (মেজো)বোনটি জীবনে কোনদিন স্কুল কলেজের চেহারা পর্যন্ত দেখেনি , কিন্তু ঘরোয়া শিক্ষা ও আব্বাজির তারবিয়াতের( গড়ে তোলা ) উসিলায় আল্লাহপাক তাকে দ্বীনি ইলম ও উর্দু সাহিত্যে এমন যোগ্যাতা দান করেছিলেন যে বড় বড় ডিগ্রিধারী মেয়েরাও অত যোগ্যাতা সম্পন্ন হয় না ।
শৈশব থেকে লেখাপড়ায় প্রচন্ড আগ্রহ ছিল । লেখনি ও কথা বার্তায় সাহিত্যের আমেজ ছিল সেই ছোট কাল থেকেই । স্বভাবগত ভাবেই বেশ পরিচ্ছন্ন কাব্যরুচি ছিল । কবিতা বুঝবার যোগ্যাতা ছিল উচুমানের । পাশাপাশি নিজ থেকে অনায়াসে গভীর অর্থোবোধক ভালো-ভালো কবিতা বলতে পারত , তার কাব্যের কাছে অনেক সময় বড়-বড় কবিরাও হার মানতে বাধ্য হতো
আব্বাজির বদৌলতে আল্লহর ফযলে আমাদের ঘরের পরিবেশ পুরোপুরি দ্বীনি ছিল । আমাদের এই বোনটিও সেই দ্বীনি রঙে রঙ্গিন ছিল । আব্বাজির ছুটি কাটানোর জন্য সপরিবারে থানবী রহ: এর চলে যেতেন । সেই সুযোগে আমাদের বড় বড় ভাই-বোনরাও হযরতের খেদমতে ও তারবিয়াতের দ্বারা উপকৃত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন । ফলে আমাদের এই বোনটিও এই মহা নেয়ামত দ্বারা ধন্য হয়েছেন । খুব সম্ভবত হযরতের একজন নিয়মিত মুরিদ ছিলেন
আলহামদুলিল্লাহ এ তারবিয়াত তার মন-মেজাজ রুচি চিন্তাও কর্মের উপর দ্বীনি রং জড়িয়ে ছিল । ইবাদত , আযকার , ও আযীফার পাবন্দ ছিলেন । পবিএতার প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন । সকল মৃত আত্নীয়ের জন্য আলাদা-আলাদা ইসালে সাওয়াব করতেন , জীবিতদের জন্য আলাদা আলাদা নাম নিয়ে দু’আ করা নিয়মিত আমল ছিল । সদাচারিনী ও সদালাপিণী ছিলেন । পরোপকারের প্রচন্ড আগ্রহ ছিল , মেজাজ ছিল শান্ত ও বিনয়ী । জীবনের শেষের দিকে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন । কিন্তু এই সঙ্কটময় মুহুর্তেগুলোতেও কর্তব্য পালনে খুবই যত্নবান ছিলেন
মৃত্যুরোগের দিনগুলোতে লাগাতার কয়েকদিন পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় পরেছিলেন ,কিন্তু অচেতন অবস্থায় ও মাঝে মাঝে যখন একটুখানি হুশ পেলে সবার আগে মুখে যে শব্দটি উচ্চারিত হতো সেটি হল “নামায” । নামায বলেই তিনি উঠে বসবার চেষ্টা করতেন , যেন নামায পড়তে চাইতেন , কিন্তু রোগর তীব্রতার কারনে উঠতে পারতেন না ।
তার ইন্তিকালের পর মাএ ৪৫ দিন পর তার স্বামীও ইন্তিকাল করেন বিষ্ময়কর ব্যাপার হল , বোনটি যে রোগে ও যেরুপ পরিস্থিতির মোকাবেলা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন , স্বামীও ঠিক একই রোগে একই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন , । পার্থিব জীবনের দুই বন্ধুর মাঝে আখেরাতের সফরেও এত মিল জীবনে কমই দেখতে পেয়েছি
মুফতি ত্বকী উসমানি সাহেব
Comments