মুসলিম নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশন

পোস্টের শুরুতেই একটি কথা বলে রাখা জরুরী মনে করছি আর তা হল এই পোস্টটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা আল্লাহ্‌র হুকুমমতো নিজেরা চলতে চান এবং নিজের পরিবারকে আল্লাহ্‌র হুকুমমতো চালাতে চান তাদের জন্য, অবশ্যই সুশীল ও তথাকথিত আধুনিকমনাদের জন্য এই পোস্টটি নয়। 

ইসলাম বলে নারীর ক্যারিয়ার তার ঘরে, বাহিরে নয়। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)এর হাদীস, সাহাবা(রাঃ)দের দৃষ্টান্ত, উলামাদের বক্তব্য ১৪০০ বছর ধরে সুবিদিত। কোন সত্যপন্থী আলেম নারীদের  ঘরের বাহিরে কাজ করার ব্যাপারে অনুমতিজ্ঞাপক ফাতাওয়া দেননি। সেকুলারদের কথা বাদই দিলাম অনেক প্র্যাক্টিসিং মুসলিমাহ দাবিদাররাও নিজেদেরকে ক্যারিয়ারিস্ট ছাড়া যেন ভাবতেই পারেন না। ক্যারিয়ার গড়তে হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, হেন করতে হবে তেন করতে হবে কতো যুক্তি তাদের। মুসলিম নারীদের ক্যারিয়ার তার ঘরে, বাহিরে নয়। এটাই ইসলামের দাবি। কারো মানতে ইচ্ছা হলে মানুক, ইচ্ছা না হলে মানবে না। হাশরের ময়দানেই বুঝা যাবে আল্লাহ্‌র হুকুমের বিপরীতে নিজের যুক্তি দিয়ে ইসলাম বুঝার ফল। আল্লাহ্‌ সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুক।

“হিজাব করে মহিলারা পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারবে”

– একটি বহুল প্রচলিত শয়তানি ধোঁকা।

অতঃপর নারী জাতির সেই পুরনো উক্তি “মেয়েরা কি পড়াশোনা করছে ঘরে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকার জন্য”, “হিজাব করে মেয়েরা কেন বাহিরে কাজ করতে পারবে না?” ইত্যাদি। অবশ্যই নারী ডাক্তার, নার্স, নারী টিচার প্রয়োজন নারীদের জন্যই। এইজন্য নারী শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সিস্টেমটা এমন যে নারী সারাজীবন শিক্ষা অর্জন করার তাকে এমন পরিবেশে চাকরি করতে হয় যে পরিবেশকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। যেখানে পুরুষ সহকর্মী পাশে বসা থাকে ওই পরিবেশে হিজাব করে চাকরি করার কথা বলা লেইম জোকস ছাড়া কিছুই না। হইত আপনি হিজাবের সংজ্ঞা বুঝেন না, আর না হয় শয়তানি ধোঁকায় আপনি আক্রান্ত।

একটা মা খুব ভালো করেই জানেন তার অনুপস্থিতিতে তার বাচ্চাকে কাজের মেয়ে বা বুয়া কিভাবে লালনপালন করবে। অথচ তথাকথিত ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে এখনকার কিছু মায়েরা তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করার পরিবর্তে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করে তার ক্যারিয়ারের মর্যাদা(?) রক্ষা করে। অথচ তার স্বামীর ইনকাম দিয়ে তাদের সংসার খুব ভালো করেই চলে যেত। টাকা রোজগারের জন্য সন্তানকে ঘরে কাজের লোকের কাছে ফেলে রেখে তার বাহিরে কাজ করতে যাওয়ার কোনই প্রয়োজন ছিল না।

যারা গার্মেন্টসে চাকুরী করেন,কম-বেশি তাদেরটা প্রয়োজনের তাগিদেই! কিন্তু, কর্পোরেটওয়ার্ল্ডে যারা আছেন, তাদের অধিকাংশই বিলাসিতাকে আরেকটু বাড়ানোর জন্য চাকুরীতেনিজেকে নিয়োজিত করে থাকেন

আমাদের প্রতিযোগিতা হবে, জান্নাতী তথা অনুকরণীয়দের সাথে, “সেকুলারদের” সাথে নয়!কোনভাবেই নয়! কখনোই নয়!

 

“প্রয়োজন” আর বিলাসিতা এক জিনিস নয়। আর এখানে বিলাসিতা নিয়ে কথা বলা হয়েছে। কেননা প্রয়োজন পূরনের জন্য তার বাবা বা স্বামীই যথেষ্ট! (একান্ত ব্যতিক্রম বাদে, যা এখানের আলোচ্য বিষয় নয়!)

এবার আসি নারীর ঘরের বাহিরে কাজ করার ব্যাপারে একজন নারীর করা প্রশ্নের জবাবে বর্তমান বিশ্বের একজন শীর্ষ আলিম শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ(দাঃবাঃ) এর একটি
ফাতাওয়া।প্রশ্নঃ আমি একজন ২০ বছরের যুবতী, ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশুনা করছি। গ্রীষ্মে আমি একটি স্টেশনারী দোকানে পার্ট টাইম জব করি,আমার কলেজ ফি এর জন্য। আমি কি এতে গুনাহগার হবো? আমি নিকাব করি, তাই মাঝেমাঝে মনে হয় কোন ধার্মিক ব্যক্তি আমাকে এ কারনে কিছু বলেন না।

উত্তরঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার

প্রথমত, শরীআহের মূলনীতির একটি হল, নারীরা গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যে ছাড়া বাইরে যাবেনা। আল্লাহ বলছেন:

“আর তোমরা গৃহে অবস্থান করো এবং জাহিলী যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।” [সূরা আল আহযাব : ৩৩]

যদিও এখানে নবী(সাঃ) এর পত্নীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে, তথাপি এটি  মু’মিন নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এখানে নবীপত্নীদেরকে সম্বোধন করার কারন, নবী (সাঃ) এর সাথে তাদের সম্মান ও অবস্থান জড়িত এবং তাঁরা মু’মিন নারীদের জন্য উদাহরন স্বরুপ।

রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে চাদর এবং যদি সে গৃহের বাইরে যায় তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)। সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না যতটা সে গৃহে থেকে করতে পারতো।” [ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ ২৬৮৮]

এবং তিনি (সাঃ) নারীদের মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে বলেছিলেন, “তাদের গৃহই তাদের জন্য উত্তম।”[আবু দাউদ ৫৬৭]
দ্বিতীয়ত,কিছু বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে নারীদের বাইরে কাজ করতে যাওয়া জায়েয আছে। যদি এসব মিলে যায় তবে সে বাইরে কাজ করতে যেতে পারে।
সেগুলো হলো …

– প্রয়োজনীয় পরিমান অর্থের জন্য তার কাজ করা প্রয়োজন, যেটি আপনার ক্ষেত্রে খাটে।

– কাজটি প্রকৃতিগতভাবে নারীদের জন্য উপযুক্ত হতে হবে। যেমন – ডাক্তারী, নার্সিং, শিক্ষকতা, সেলাই এবং এরকম আরও।

– কর্মস্থলটি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই হতে হবে এবং সেখানে নন-মাহরাম পুরুষদের সাথে কোন মেলামেশার সুযোগ থাকবে না।

– কাজের সময় সে পূর্ণরুপে শরীআহ অনুযায়ী হিজাব (পর্দা) করবে।

– তার কাজ তাকে মাহরাম ছাড়া ভ্রমনে বাধ্য করবে না।

– তার বাইরে কাজ করতে যাওয়া, কোনো হারাম কাজে জড়িত করবে না। যেমন – ড্রাইভারের সাথে একাকী অবস্থান করা বা পারফিউম ব্যাবহার করা যাতে নন-মাহরামরা নাকে তার ঘ্রান পায়।

কাজ এমন হবেনা, যা তার প্রয়োজনীয় বিষয়াদিকে উপেক্ষা করতে বাধ্য করে। যেমন – গৃহের দেখাশোনা, স্বামী-সন্তানের যত্ন নেয়া।

শাইখ উসাইমিন(রহ.) বলেন, “নারীরা যেখানে কাজ করবে, সে কর্মক্ষেত্র শুধুমাত্র নারীদের জন্যে হতে হবে। যেমন- বালিকাদের শিক্ষাদান, কারিগরি সহায়তা পরিচালনা, নিজ ঘরে মহিলাদের জন্য নারী দর্জি এবং অন্যান্য। পুরুষদের সাথে মাঠে কাজ করা নারীদের জন্য জায়েয নয়, কারন পুরুষের সাথে তাকে মিশতে হতে পারে, যা মারাত্মক ফিতনাহ (কুকর্মে প্ররোচনা এবং নানা সমস্যার উৎস) তাই এটা উপেক্ষা করা উচিত।

উল্লেখ্য, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, “আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় আর কোন ফিতনাহ রেখে যাচ্ছি না। আর,বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনাহই ছিলো নারী সংক্রান্ত। সুতরাং লোকদের উচিত তাদের পরিবারকে ফিতনাহ এবং ফিতনাহর উপকরণ থেকে দুরে রাখা। [ফতোয়ায়ে আল-মার’আহআল মুসলিমাহ : ২/৯৮১]

আপনার কর্মক্ষেত্র যদি এসকল শর্ত পুরন করে, তবে সেখানে কাজ করায় আপনার কোন দোষ নেই ইন-শা আল্লাহ। আমরা দু’আ করি আল্লাহ যেন আপনাকে একজন সচ্চরিত্র ও দ্বীনদার স্বামী মিলিয়ে দেন যাতে তিনি এসব করতে পারেন।

আর, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এই প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী(দাঃবাঃ) একটি অসাধারণ কথা বলেছেন,

“আশ্চর্য তামাশার বিষয় এই যে, নারী যখন ঘরে বসে স্বামী-সন্তানদের সেবা করে, ঘরদোর সাজায় তখন সেটা হয় পশ্চাদপদতা ও মৌলবাদীতা, অথচ এই নারীই যখন বিমানবালা হয়ে চারশত পুরুষের জন্য ট্রে সাজিয়ে খাবার সরবরাহ করে, আর তাদের লালসা-দৃষ্টির শিকার হয় তখন সেটা হয় সম্মান ও মর্যাদা !!! ”

ইসলাম বলে,মেয়েদের জন্য ঘর হচ্ছে উত্তম। আমরা কি উত্তম কিছু নিবো না? আর, বর্তমানে বাংলাদেশে কয়টা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে ফ্রি মিক্সিং এবং ফিতনা ব্যাতিরেকে অফিস করা যায়???

এই ফিত্নার যুগে,যথাযথ হিজাব থাকলেও, যেখানে নিজের ইজ্জত-আব্রু, মান-মর্যাদা, সামাজিক-নৈতিক অবস্থান রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায় সেখানে,ফ্রি মিক্সিং এবং ফিত্নাযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলাই কি উত্তম নয়?
এখানে “ঘরে বসে থাকার” কথা মোটেই বলা হয়নি। চাকুরী থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে ফিত্না থেকে,ফ্রি মিক্সিং থেকে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা হিসেবে এবং নিজের সন্তানদের(প্রয়োজনে, সাথে স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্যদেরকে ও) আদর্শভাবে গড়ে তোলার নিরিখে। আর, একটা আদর্শ পরিবার গঠন হলেই একটা আদর্শ সমাজ গঠিত হবে,আর আদর্শ সমাজ গঠিত হলে আদর্শ দেশ গঠিত হবে। আর, এখানে একজন যথাযথ শিক্ষিত নারী আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন,ইন শা আল্লাহ্‌। যারা এমন ত্যাগ করে থাকেন তাদের এই ত্যাগ অবশ্যই দুনিয়াবাসী-আসমানবাসী সম্মানের বলে বিবেচিত হবে এবং স্বয়ং আল্লাহর কাছে এর জন্য উত্তম প্রতিদান পাবেন, ইন শা আল্লাহ্‌!

আর, মেয়েরা অফিসে চাকুরী করার কারনে,অনেক যোগ্য ছেলেকেই(অন্ততঃ ঐ সব মেয়েদের তুলনায়)বেকার থাকতে হচ্ছে।

অথচ, পরিবারের ভরন-পোষন ছেলেদের উপরে ওয়াজিব, মেয়েদের জন্য নয়।

অন্যদিকে, চাকুরীজীবি মেয়েদের কারনে,ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সাধারন ছেলেদের সাথে সাথে অনেক দ্বীনি ছেলেদেরকেও অনিচ্ছা স্বত্ত্বে,ফিত্নার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

কিছু  মুসলিম বোন বলেন- চিকিৎসক, শিক্ষিকা বা অন্যান্য কর্মক্ষেত্র যেখানে নারীদের জন্যই নারীদের আবশ্যিক ভাবে প্রয়োজন, সেখানে কাজ করতে সমস্যা কোথায়?

#

দেখুন,শরীয়াহ যেটা অনুমোদন দেয়, সেটা করতে তো কোন বাঁধা নেই। কিন্তু যেটা শরীয়াহ সমর্থন করে না,সেটা করতে গেলেই যত মাথাব্যাথা। ইসলাম নারীকে নারীর প্রয়োজনেই চিকিৎসক,শিক্ষিকা হতে অনুমতি দেয়। কিন্তু সাথে সাথে মাহরামদের দুর্গে অবস্থান করতেও নির্দেশ দেয়। আফসোসের বিষয়,আমাদের দেশে নারীদের-মাহরামের দুর্গে অবস্থান করে,পরিপূর্ণ হিজাবের সাথে-চিকিৎসা, শিক্ষকতা ইত্যাদি জায়েয কাজগুলো করার সুযোগ নেই। নারীদের শিক্ষা-দীক্ষা নারীদের দ্বারাই হবে,নারীদের চিকিৎসাও নারীদের দ্বারাই হবে,নারীদের যত্ত প্রয়োজন আছে,সব পর্দা করেই হবে। কিন্তু ইসলামি শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত না থাকায় এই সিস্টেমটা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।

#

ধরুন,শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীদের মাহরামের তত্ত্বাবধানে,হিজাব করে শিক্ষা চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়া হলমনে রাখবেন,এখানেও ক্যারিয়ারিস্টহওয়ার সুযোগ ইসলামে রাখা হয় নিনারীদের এই অংশগ্রহণ কেবল ‘অনিবার্য প্রয়োজন’ পূরণেরজন্যেই হবেকারন নারীর ক্যারিয়ার তার ঘরে,বাইরে নয়

#

ডাক্তারি আর শিক্ষকতার কথা তো মুখ ফুলিয়ে বললেন। আর আমিও শরীয়াহ সম্মত হওয়ায় আপনার কথার সমর্থন দিলাম। কিন্তু যেই জায়গায় শরীয়াহর কোন সমর্থন নাই সেই জায়গায় আপনার কি কোন কিছু বলার থাকতে থাকতে পারে?? উদাহরণ দিচ্ছি, মেয়েরা Law,Engineering, Pharmacy, Architecture সহ আরো হাজারো রকমের বিশুদ্ধ প্রয়োগমূলক বিদ্যা(Pure Applied Science) শিখছে। যেগুলো শেখাই হয় বাস্তবে প্রয়োগের জন্য। এ সমস্ত ফিল্ডে নারীরা শরীয়াহর ভেতর থেকে কিভাবে ক্যারিয়ারিস্ট হবে? হ্যাঁ, মাঝখান থেকে শরীয়াহর বাঁধাটা উঠিয়ে দিলেই হয়। ব্যাস! আর কোন ঝামেলা নাই। একথা ভেবে থাকলে জেনে রাখুন যারা শরীয়াহর বাঁধাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মূলো খেতে চান, তাদেরকে বুঝিয়ে কোন লাভ নেই।

#

নারীদের ক্যারিয়ারিস্ট হওয়ার নিষেধাজ্ঞার ফিকহি প্রমান উলামায়ে হক্বের কাছে ভালমতই মওজুদ আছে। তাই আপনি চোখ বন্ধ করে,জাহিলিয়াতের যুগে খাদীজা রা.এর ব্যবসার কথা বলবেন,তারপর জাস্টিফিকেশনের রাস্তা বেছে নিয়ে পার পেয়ে যাবেন-এমনটা ভাবার চেষ্টা করবেন না। সত্যকে প্রকাশে দীন ইসলামের অতন্দ্র প্রহরী উলামায়ে কিরাম কখনোও কারো সাথে আপোষ করেন নি। আপনার সাথেও করা হবে না। কুরআন ও সুন্নাহর বিকৃত-ব্যাখ্যা করার সুযোগ কাউকেই দেয়া হবে না।

শ্রদ্ধেয় সোহাইল দউলাহ স্যার উনার একজন কাজিনের কথা উল্লেখ করেছেন যিনি বুয়েট থেকে পড়াশুনা শেষ করেছেন কিন্তু সে চাকরি করবে না। তার স্বামী তাকে চাকরি করতে নিষেধ করেছে কি না প্রশ্ন করাতে তার উত্তর ছিল কিছুটা এমন।

“আল্লাহের পর্দার বিধান ভেঙ্গে চাকরি করার অনুমুতি আল্লাহ আমাকে দেয় নাই এবং আমার তার প্রয়োজন নাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে কি সম্পদ ছিল যে তার স্ত্রীরা ঘরে থাকতো, চাকরি বা ব্যবসা করতো না? জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া সাহাবীদের স্ত্রী চাকরি বা ব্যবসা করেছে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। আর আমরা এতো বিলাসিতার জীবন পাবার পরও কিভাবে ইসলামকে বিসর্জন করে সমাজে নিজেকে সম্মানিত করার জন্য চাকরি করার কথা ভাবি!!। আমার বাবা আমাকে খাবার, থাকা,কাপড় অলংকার সব দিয়েছেন এবং তাকে কোনদিন কোন অভিযোগ শুনতে হয় নাই তাহলে আমি কিসের আশায় চাকরি করাকে প্রাধান্য দিবো? আমার স্বামী একই ভাবে আমাকে দেখেছেন। আসলে ইসলাম সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে আর আমরা সেই সীমানা নিয়ে লাফালাফি করি কিন্তু উদাহরণকে ভূলে যাই যা জান্নাতি নারীদের মাধ্যমে এসেছে। আল্লাহ জন্য যে বিসর্জন দেয় সেই আল্লাহের প্রিয়, যে সমাজের জন্য আল্লাহর নীতিকে বিসর্জন দিল সে তো বোকা।”

আসলেই আমরা ইসলামের জন্য কি ত্যাগ করেছি তা নিয়ে চিন্তা করা উচিৎ।

এরপরেও কিছু মানুষ প্রশ্ন করবে, খাদিজা (রা) তো ব্যবসা করতেন, আয়িশা (রা) তো শিক্ষিকা ছিলেন…তবে?

খাদিজা (রা) ব্যবসা করতেন কুরাইশদের কাউকে দায়িত্ব দিতে, নিজে ঘর থেকে বেরিয়ে নয়। আয়িশা (রা) শিক্ষা দিতেন হুজরার ভেতর পর্দার আড়াল থেকে। আর তিনি পয়সা কামাই করতে এ কাজ করতেন না। আর উনারা ছিলেন উম্মাহাতুল মু’মিনিন অর্থাৎ মুমিনদের মা। মুসলিম উম্মাহর সকল নারীপুরুষদের মা হলেন উনারা। উনাদের এতো কঠোর পর্দা না করলেও চলতো তারপরও কেন করেছেন???

যারা খাদিজা-আয়িশা বলতে বলতে মুখে দাগ বানিয়ে ফেলে, তারা কিন্তু খাদিজা(রাঃ)এর স্ত্রীত্বটা নেবে না, আয়িশা(রাঃ)এর দ্বীন শেখানোটা নেবে না। বলবে শুধু চাকরি ব্যবসা করার কথা।

এই ব্যাপারে কৃষক ভাই বলেন,

যদি বলা হয়, আচ্ছা হাদীস থেকে দেখলাম, যে চারজন জান্নাতী নারী অন্যান্য জান্নাতী নারীদের শ্রেষ্ঠ,সর্দারনী, তারা তো হলেন একজন আদর্শ স্ত্রী (খাদিজা), একজন আদর্শ সন্তান লালনপালনকারী-মা (মারিয়াম, আছিয়া), একজন আদর্শ কন্যা (ফাতিমা)।

– তারা জান্নাতী নারীদের সর্দারনী হয়েছেন ঘরের কাজ করেই !

ঘরের বাইরে পুরুষদের মত কোন কাজ তারা করেননি, একসাথে নারী পুরুষ কাজ তো প্রশ্নই আসে না !

এখন আপনি যদি একজন নারী হয়ে থাকেন-তাহলে নিজের জন্য কোনটা পছন্দ করবেন?
জান্নাতী নারীদের সর্দারনীর কাজকে পছন্দ করবেন? নাকি এই জাহেলি যুগে পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পেশাগত জীবনের উৎকর্ষতাকে (!) বেছে নিবেন। “আরে, দাঁড়াও-দাঁড়াও- এত যে কথা বলছ, নিজের বাচ্চা ডেলিভারি করানোর সময় তো ঠিকই মহিলা ডাক্তার খুঁজতেছিলা, সব মেয়ে যদি ঘরে থাকে, তাহলে মহিলা ডাক্তার নার্স কই পাই!”

– ওকে, তুমি তাহলে মহিলা ডাক্তার নার্স হও, আর আমি একজন আদর্শ স্ত্রী, কন্যা আর মায়ের ভূমিকা পালন করি?

দুইটা কাজের চূড়ান্ত ফলাফল- ultimate success এর লেভেল দেখেও যদি নিজের জন্য উত্তম বেছে নিতে না পারি, তাহলে আর কথা বাড়িয়ে কি লাভ !

ঘরের কাজের মর্যাদা কি? জান্নাতের নারীদের সর্দারনী হওয়া! এটা মাত্রই বলেছি, আসুন আরেকটু প্রাকটিক্যাল উদাহরণ দেখি,

ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ঘরের কাজ করে ক্লান্ত, হাতে ফোসকা পড়ে গেছে, পিতার ঘরে এসে মুখ ফুটে বলতে পারলেন না। ফিরে গেলেন, “কেন এসেছো?” – আপনাকে সালাম করতে এসেছি।
আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একটু পর নিজে স্ত্রী ফাতিমাকে নিয়ে এলেন- বললেন –কাজে কর্মে সহায়তার জন্য ফাতিমার একজন দাসী দরকার।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কসম করে বললেন, তিনি তাদেরকে একটি দাসীও দিবেন না, তিনি অন্যত্র তাদেরকে নিয়োজিত করে দিলেন।

সন্ধ্যার পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই এলেন। নিজের কন্যার কষ্টের কথা ভুলে যাননি, তাই একজন দাসীর মাধ্যমে তাদেরকে উপকৃত করার চেয়েও উত্তম কিছু নিয়ে এলেন, সেটা কি ছিল? ফাতিমার ঘরের কাজের কিছু অংশ দূর করে দেয়া? কমিয়ে দেয়া??

… আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্য ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা গম পেষার চাক্কি ঘুরানোর কারণে ফোস্কা পড়া হাত নিয়ে তার কষ্টের কথা ব্যক্ত করলেন এবং একজন খাদেম দাবি করলেন, যে এসব কাজে তাঁকে সহযোগিতা করবে;

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কন্যাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ

“আমি তোমাদেরকে এমন একটি আমলের কথা বলে দেবনা, যা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চেয়েও অনেক বেশি উত্তম? যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন তোমরা ‘আল্লাহু আকবার’ তেত্রিশ বার, ‘সুবহানাল্লাহ’ তেত্রিশ বার এবং ‘আলহামদু লিল্লাহ’ তেত্রিশ বার পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চেয়েও অনেক বেশি উত্তম।” –

[ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. হাদিসখানা বর্ণনা করেন]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের মেয়ে ফাতিমার ঘরের কাজ করার কষ্ট দূর করে দিলেন না, বরং তার থেকেও উত্তম নিয়ে এলেন –যা হাদীসে আমরা দেখলাম।

আসলে মূল সমস্যাটা হচ্ছে, আমরা কি সত্যি নিজেদের জন্য সবচেয়ে উত্তমটা চাই? জান্নাত চাই? তাহলে কেন জান্নাতী নারীদের সর্দারনীদের কাজ করতে এত অনাগ্রহ? কোন অজুহাতে বলতে চাই- ঘরের কাজ করেও যদি…

সবশেষে, আরও একবার-

“যখন নারী তার পাঁচ ওয়াক্তের সালাত আদায় করবে; তার (রমযান) মাসের সাওম পালন করবে; তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করবে, তখন তাকে বলা হবে: তুমি জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা কর, সে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবশে কর।” [#১৬৬১ মুসনাদে আহমাদ।]

এখন যারা বলেন এতো পড়াশোনা করলাম কিন্তু এই পড়াশোনা করে তো কোন লাভ হলো না। তাদের জন্য ভাই শেখ সাদির একটি সুন্দর পোস্ট উল্লেখ করলাম।

একটি থিওরী দিয়ে শুরু করি।

Theory of Effort & Output-
“If an indiviual’s endeavours fail to produce the expected output, the effort of the individual is nullified.”

অর্থাৎ, “যদি কোন ব্যাক্তির প্রচেষ্টা আশানুরূপ ফলাফল দিতে না পারে,তবে সে ব্যাক্তির প্রচেষ্টা শূন্য বলে ধরা হবে।”

যেমন: দুইজন জেলে। একজন সারাদিন বাড়িতে বসে ঘুমিয়েছে ,কোন মাছ ধরতে পারে নি। আরেকজন মাছ ধরবে বলে, নদীতে সারাদিন জাল ফেলে অনেক কষ্ট-পরিশ্রম করেও একটা মাছ ধরতে পারে নি। এখন যেহেতু মাছ ধরাই সাফল্যের মাপকাঠি, তাই দুইজনই সমান। ধরুন, আরেকজন শখানেক মাছ ধরল, কিন্তু বাড়ি ফেরার আগে কোন কারনে বাধ্য হয়ে সবগুলো মাছ নদীতে ছেড়ে দিল।
থিওরী অনুযায়ী, সারাদিনে ৩ জনের Output = 0, তাই ৩ জনই সমানভাবে ব্যর্থ।

এখন থিওরীর কচকচানি বাদ দিয়ে অন্যভাবে দেখা যাক, নদীতে না গিয়ে আরাম করে যে জেলে ঘুমিয়ে ছিল মাছ বেঁচে ঐদিন উপার্জন করতে না পারায় তার কি কোন কষ্ট হবে? মোটেই না। আর যে জেলে চেষ্টা করেও পারে নি, আর যে জেলে মাছ ধরেও পানিতে ছেড়ে দিয়েছে, তাই দিন শেষে তাদের কামাইও শূন্য! তাদের কষ্টটা কি অনেক বেশি হবে না?

থিওরীর ৩ জেলের মত সমাজেও ৩ শ্রেণীর গৃহিণী আছে।

(১)যারা পড়ালেখা করে না এবং গৃহিণী হয়।

(২)যারা পড়ালেখা করে কিন্তু চাকরি-বাকরি না পেয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও গৃহিণী হয়।

(৩)যারা পড়ালেখা করে কিন্তু চাকরি না করে গৃহিণীর হওয়ার স্বিদ্ধান্ত নেয়।

আমাদের সমাজে একটি মেয়েকে তার বাবা-মা ৫ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি করে দেয়। তারপর সেইমেয়েটি ২০ টা বছর ধরে এমন শিক্ষাব্যবস্থায় লেখাপড়া করে যেখানে ভাল Job,ভাল Career কেই সাফল্যের মাপকাঠি ধরা হয়। সেই মেয়ের কাছে আপনি আশা করতে পারেন না; যে সে বলবে “আমি গৃহিণী হবো!”

একটি ছোট্ট মেয়ে যখন পড়তে চায় না, বলে- স্কুলে যেতে ভাল লাগে না। কী বলে তাকে বাবা-মা স্কুলে যেতে রাজি করায়? বলে, “মামনি! লেখাপড়া না করলে কিভাবে ডাক্তার হবে?” অবুঝ মেয়েটি কখনোও তার বাবার, কখনোও তার মার শেখানো স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বলে ভাবা শুরু করে। এই মেয়েটি হাড্ডিভাঙ্গা পড়ালেখা করে যখন এম.বি.বি.এস পাশ করল, তখন ডাক্তারিকেই বেছে নিবে, গৃহিণী হওয়াকে নয়।

দ্বীনদার হয়েও ক্যারিয়ারিস্ট হতে চাওয়া। এই Conflict এর কারন:

যেসব মেয়েরা কর্মজীবি নারীদের পক্ষে কথা বলেন কারন তারা নিজেরাও এমন সিস্টেমে লেখাপড়া করেছেন যে যদি তারা career গড়তে না পারেন সমাজ, আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব, এমনকি নিজের কাছেও ছোট হয়ে থাকবেন। তাই তাদের মন কর্মজীবি হওয়ার দিকে ঝুকে। আর জাস্টিফিকেশনের রাস্তা বেছে নেয়।

আরো সহজভাবে বুঝানোর চেষ্টা করছি। ধরুন কোন ছেলেকে যদি পিএইচডি কমপ্লিট করার পর বলা হয়, তুমি এখন ঘরসংসারের দেখভাল করবে। এটাকে কি সে মেনে নিবে? কক্ষনো না! কারন সে পড়ালেখা এতদূর করেছেই Shiny Career এর জন্য।

মেয়েদের বিষয়টাও এভাবে চিন্তা করুন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ছেলে-মেয়েদের সমান ভাবে ক্যারিয়ার গড়ার তালিম দেয়া হয়। সুতরাং এই শিক্ষাব্যাবস্থাই এই Conflict এর জন্য দায়ী।

গৃহিণী হওয়ার স্বিদ্ধান্ত কতটা কঠিন???

চিন্তা করে দেখুন, কেউ যদি উচ্চতর পড়ালেখা করে কেবল ইসলামের বিধানকে মানার জন্য গৃহিণী হওয়ার স্বিদ্ধান্ত নেয় কত বড় বড় ত্যাগ তাকে করতে হবে! প্রথমত, এতে তার ১৫-২০ বছরের পড়ালেখা Nullified হয়ে যাবে। Nullified কেন হবে কারনটা আমি আগেই বলেছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সাফল্য কে বস্তুবাদী Career এর তুলাদন্ডে মাপা হয়। নিজের জীবনের সমস্ত Effort কে ৩ নম্বর জেলের মত Nullify করে দিয়ে শুধু আল্লাহর ভয়ে Careerist হওয়ার স্বিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারা সবার জন্য সম্ভব নয়। এর জন্য পর্বতপ্রমান তাকওয়া প্রয়োজন।

আমি যেটা বলতে চাই,তা হল নারীদেরকে আমরা প্রচলিত শিক্ষাব্যাবস্থায় পড়াব, আবার তাদেরকে বলব, “গৃহিণী হতে হবে।” এইসব হবে না বা এসব সাধারণ পরিস্থিতি মানু্ষ জন মেনে নিবে না। আপনি তাকে দুনিয়াদার হওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে, রাস্তায় হাটা শিখিয়ে দিয়ে এখন বলবেন এই রাস্তায় চলো না। তা হবে না। সমাধান একটাই। নারীদের জন্য একটি ভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। যা তাকে একজন মানুষ হিসেবে বিকশিত করবে, নৈতিকতা ও দ্বীনদারী শিক্ষা দিবে। সমস্ত বিষয়ে অবাধ জ্ঞানার্জনের সুযোগ দিবে কিন্তু বস্তুবাদী ক্যারিয়ারিস্ট হওয়ার জন্য উৎসাহিত করবে না বরং আখিরাত কেন্দ্রিক ক্যারিয়ারিস্ট হতে উৎসাহী করবে এবং সেভাবে গড়ে তুলবে। আর এতে একজন নারী ছোট থেকেই হয়ে উঠবে বাবা-মায়ের আদর্শ মেয়ে, পরবর্তীতে আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ মা। তাকে দিয়ে বাইরের লোকেরা আর নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে পারবে না, সে গুনাহে লিপ্ত হবে না বরং মাহরামদের দূর্গ দ্বারাই সুরক্ষিত থাকবে।

আর শিক্ষাব্যবস্থার এ আমূল পরিবর্তন করতে গেলে চাই ইসলামি শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা। তাহলে কি দেখা যাচ্ছে? সব রোগের উপসর্গ একটাই। শরীয়াহ আইন না থাকা। আর চিকিৎসাও একটাই,শরীয়াহ কায়েম করা। মহান আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুক। আমিন। 

*** মুসলিম নারীদের ঘরের বাহিরে কাজ করার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন এবং অনলাইনের ভাইদের দেয়া উত্তরের একটি কম্পাইলেশন এই নোটটি। মহান আল্লাহ্‌ এইসব ভাইদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন এবং আমাদের মা বোনদেরকে দ্বীনের সহিহ বুঝ দান করুন।

আরো পড়ুন পোস্ট করেছেন

Comments

লোড হচ্ছে...
শেয়ার হয়েছে